সাভারে ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ। এর আগে সকালে উপজেলা আনসারের সহকারী প্লাটুন কমান্ডার শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, ফুটপাতে হকার বসতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আনসার সদস্যদের ওপর হামলা চালায় ফুটপাত দখলকারীরা। এতে ছয় আনসার সদস্য আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে প্লাটুন কমান্ডার মো. শামসুজ্জামান (২১) গুরুতর আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে তার দুই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আনসার সদস্য মো. মুন্না (২৩) সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রড ও লাঠির আঘাতে তার মাথা ফেটে গেছে। আহত অন্য সদস্যরা হলেন মাহিন, বরকতউল্লাহ মামুন, রিয়াদ ও তৌহিদুল ইসলাম। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত আনসার সদস্য এম এইচ মানিক জানান, বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গী সুপার মার্কেটের সামনে হকারদের বসতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে শুক্রবার সকালে কয়েকজন হকার দলবদ্ধ হয়ে আবারও রাস্তায় বসার চেষ্টা করেন। আনসার সদস্যরা বাধা দিলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সংঘবদ্ধ হয়ে হকাররা হামলা চালায়।
আনসার সদস্য বরকতউল্লাহ মামুন বলেন, শুক্রবার বিকেলে নিউমার্কেট এলাকার সামনে ফুটপাত দখলের খবর পেয়ে প্লাটুন কমান্ডার শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন হকার চাপাতি, রড, লাঠি ও ইট নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আনসার সদস্যদের হাতে শুধু লাঠি থাকায় তারা হামলা প্রতিরোধ করতে পারেননি।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের পর সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার সার্ভিস লেন ও ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদ করে উপজেলা প্রশাসন। এরপর পুনরায় যাতে হকাররা বসতে না পারে, সে জন্য সেখানে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে গত কয়েকদিন ধরে হকারদের পুনরায় বসার চেষ্টা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।
ওএফ/এসআর