পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিনের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৬০০ লিটার ভেজাল দুধ ও দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে প্রশাসন। এ সময় আজিজুল প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাবনার উপ-পরিচালক লুৎফর কবিরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া জোলার কান্দি গ্রামের আজিজুল প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল মমিন এবং ইসমাইল হোসেনের ছেলে আল আমিনের বাড়ি থেকে ৬০০ লিটার ভেজাল দুধ, কেমিক্যাল, ডিটারজেন্ট গুঁড়া, সয়াবিন তেল, জেলিসহ ভেজাল দুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আব্দুল মমিন ও আল আমিন পালিয়ে যান।
পরে একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম এবং কুদ্দুস খলিফার ছেলে নিজাম উদ্দিন অভিযানকারী দলের ওপর চড়াও হয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী এবং থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মনিরুল ও নিজাম পালিয়ে যান। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বিলচলন ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও অভিযুক্ত আব্দুল মমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি লিটন বিশ্বাস জানান, এর আগেও ভেজাল দুধ কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মমিনকে শোকজ করা হয়েছিল। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নটাবাড়িয়া বিশিপাড়া এলাকায় কৃষক দল নেতা আব্দুল মমিন তার বাড়ির উল্টো দিকে একটি টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে শিশু খাদ্য, সয়াবিন তেল, কেমিক্যালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক মণ ভেজাল দুধ তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে বিক্রি করা হতো। বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানলেও প্রভাবশালী ও দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।
গত বছরের ১৮ আগস্ট মমিনের দুধ কারখানা থেকে ৭০০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় পরবর্তী অভিযানে গত বছরের ২০ আগস্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আরআর/আরএন