বাগেরহাটের শরণখোলা আকাশে হঠাৎ এক রহস্যময় আলোকরশ্মি দেখা দেওয়ায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তীব্র গতির এক উজ্জ্বল আলোর রেখা বয়ে যেতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আলোটি দেখতে সাধারণ নক্ষত্র বা বিমানের আলোর মতো ছিল না। এটি বেশ উজ্জ্বল ছিল এবং এর পেছনে লম্বা ধোঁয়ার মতো একটি লেজ দেখা যাচ্ছিল।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, “আচমকা আকাশের পশ্চিম দিক থেকে একটি বিশাল আলোকপিণ্ড দক্ষিণ দিকে চলে যেতে দেখলাম। এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল, কিন্তু এর তীব্রতা ছিল দেখার মতো। এটি জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। অনেকের ধারণা, চলমান ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের কোনো মিসাইল আমাদের দেশে চলে আসছে।”
শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বলেন, “২০২২ সালের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে এরকম একটি রহস্যময় আলোকরশ্মি দেখা গিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।”
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি কোনো উল্কাপাত হতে পারে অথবা মহাকাশে পাঠানো কোনো রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ফলে সৃষ্ট ঘর্ষণের আলো হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এলন মাস্কের স্পেস-এক্স বা অন্য কোনো মহাকাশ গবেষণা সংস্থার রকেট উৎক্ষেপণের পর এমন “স্পেস জেলিফিশ” দৃশ্য অনেক দেশেই দেখা গেছে।
তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের কোনো মিসাইল বা অলৌকিক কিছু বলে মনে করছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আবহাওয়া বা মহাকাশ গবেষণাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিশ্চিত করলে এই আলোর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
এদিকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এটি কৃত্রিম উপগ্রহের কক্ষপথ পরিবর্তনের সময় নির্গত জ্বালানির প্রতিফলনও হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে এখন বিশেষজ্ঞ মতামতের অপেক্ষায় এলাকাবাসী।
এমআর/আরএন