আজ পঁচিশে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিলাইদহের ঠাকুরবাড়িতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা।
জানা যায়, পৈতৃক নিবাস কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে স্বপরিবারে জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে এসে কবি জীবনের অনেক মূল্যবান সময় কাটিয়েছেন তাঁর স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে। এখানেই বসে তিনি গীতাঞ্জলি কাব্য রচনা ও অনুবাদ করেন এবং নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রান্ত। রঙের আঁচরে অপরূপ হয়ে উঠেছে কুঠিবাড়ি। ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে কবির ব্যবহৃত আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সব স্মৃতিচিহ্ন।
আঙিনায় বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মিত হয়েছে মঞ্চ এবং দর্শনার্থীদের বসার স্থান। কুঠিবাড়ির মিউজিয়ামের গাইড শাহজাহান জানান, রবীন্দ্রনাথের নিজ হাতে ব্যবহৃত পালকি, শয়ন খাট, আলমিরাসহ সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। গবেষক ও ভক্ত-অনুরাগীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ঠাকুরবাড়ি।
শুক্রবার (৮মে) উদ্বোধনী দিনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলার সভাপতিত্বে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও কর্মময় জীবন নিয়ে স্মারক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিশেষজ্ঞ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে কবিগুরুর লেখা রবীন্দ্রসংগীত ও কবিতা পাঠসহ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এসআই/আরএন