রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের একমাস পার হলেও মায়া আক্তার (১২) নামে এক স্কুলছাত্রীর কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ উঠেছে।
নিখোঁজ মায়া আক্তার উপজেলার চৌধুরী মাহবুব হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর গ্রামের মো. হাসান মোল্লার মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল প্রতিদিনের মতো মায়া বিদ্যালয়ে গেলেও আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। ওইদিনই মায়ার মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় স্থানীয় যুবক মো. সুমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে সুমন নিয়মিত মায়াকে উত্যক্ত করতেন। নিখোঁজের দিনও তাকে সন্দেহজনকভাবে দেখা গেছে বলে পরিবারের দাবি। পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল একই ঘটনায় রাজবাড়ীর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
নিখোঁজ ছাত্রীর দুলাভাই মো. রাকিব নলিয়া অভিযোগ করে বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং বিভিন্ন সময় আপোষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের পরিবারের কাছে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। বরং দাবি করেছে, মায়া আক্তার ভালো আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তত ফোনে কথা বলার সুযোগ চাইলেও সেটিও দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরিবারটি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের শরণাপন্ন হয়। ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তাতেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।
এদিকে, গত ২৪ এপ্রিল অভিযুক্ত সুমনের বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে রাজবাড়ীর আদালতে একটি মামলা করেন। এতে দাবি করা হয়, সুমন ও মায়া স্বেচ্ছায় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে একত্রে বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে গত ৫ মে ওই মামলার নোটিশ মেয়েটির পরিবারের কাছে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট নয়। অভিযোগকারীদের আমার কাছে পাঠালে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, “নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার আমার কাছে এসেছিল। বিষয়টি দুঃখজনক। আমি তখনই থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”
এক মাসেও স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা না যাওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এসআই/এসআর