সুনামগঞ্জের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের প্রকৃত কৃষকদের সহায়তায় স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত তিন মাস মেয়াদি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। এই সহায়তা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ করতে তিনি অধিক ক্ষতিগ্রস্ত, মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত এবং স্বল্প ক্ষতিগ্রস্ত—এই তিনটি স্তরে তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অতীতে নানা সমালোচনা হয়েছে, তাই এবার তালিকা প্রণয়নে কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না। কিছুটা সময় বেশি লাগলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাকে তিনি অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি সুনামগঞ্জকে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় বিশেষ বজ্রনিরোধক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমপি। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজান চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর পাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার এবং কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক উমর ফারুক। সভায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সার্কিট হাউজের সভা শেষে অতিথিরা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ কৃষকের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণকালে মন্ত্রীদ্বয় পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে হাওরের কোনো পরিবার যেন অনাহারে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এএস/আরএন