'তুই চুরি করছোস, আমারে বলে চুরি করলি না কেন'—জামালপুরে ভাইরাল অডিও ক্লিপটি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন অভিযুক্ত জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান।
ঘটনার নেপথ্যে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিম ও শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহানের মধ্যে এখন দ্বন্দ্ব চরমে।
সোমবার (৪ মে) সকালে শেখ আব্দুস সোবহান তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও'র খণ্ডিত অংশ প্রকাশের অভিযোগ ও বালুমহালের টেন্ডার সমঝোতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান জানান, গতমাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ছনকান্দা-চর খয়ারপুর বালুমহালের ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিনিও দরপত্রের সিডিউল ক্রয় করেন। দরপত্র দাখিলের আগের দিন ১৮ এপ্রিল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিম তাকে স্থানীয় এমপি অ্যাড. শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুনের বরাত দিয়ে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে তাকে এমপিসহ উপস্থিত নেতারা টেন্ডার সমঝোতা করতে বলেন।
সমঝোতার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বোচ্চ দরদাতা ৯ নং ওয়ার্ড (পূর্ব) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের মেসার্স আমেনা এন্টারপ্রাইজসহ তিনটি দরপত্র বাক্সে জমা করার কথা ছিল। রুহুল আমিন মিলন ও যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাকি দরপত্রগুলো রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়ে নেন।
পরবর্তীতে আমেনা এন্টারপ্রাইজের বিডি সরিয়ে মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজকে সর্বোচ্চ দরদাতা উল্লেখ করে রুহুল আমিন মিলন ও আব্দুল হালিম দরপত্র বাক্সে জমা দেন।
মূলত এমপির নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই এটি করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ আব্দুস সোবহান বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়রা সংক্ষুব্ধ হয়। বিষয়টি জানতে এমপি ও আব্দুল হালিমকে ফোন করা হলে কেউ সাড়া দিচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে আব্দুল হালিম ফোন রিসিভ করলে 'এমপি সাহেবের নির্দেশে এই কাজ করেছে'—বলে ঘটনা সম্পর্কে জানান।
একপর্যায়ে মোবাইলে তাকে উল্টাপাল্টা কথা বলা বলে সংক্ষুব্ধ করা হয়। পরে তা গোপনে রেকর্ড ও কাটছাট করে মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিম, "সংবাদ সম্মেলনে আমাকে ও এমপি মহোদয়কে জড়িয়ে তিনি যেসব দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার সঙ্গে আমার যতটুকু কথা হয়েছে ততটুকু অডিও ক্লিপই ভাইরাল হয়েছে, একটুও কমবেশি নয়।"
জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জেডজেড/এসআর