গেল কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। ধান কাটার মৌসুমে প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপে সোনালি ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। যে জমিতে কিছুদিন আগেও ছিল সোনালি স্বপ্ন, সেখানে আজ নেমে এসেছে হতাশার ছায়া।
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের কুলছুমবাগ ও হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান, বাদাম, তিল, মরিচ, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। অনেক কৃষকের পুরো মৌসুমের ফসলই মাটিতে মিশে গেছে। এমন চিত্রই পুরো উপজেলাজুড়ে।
হাজারীগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. নূরে আলম জানান, এ বছর তিনি ধান, বাদাম, আলু ও তিল চাষ করেছিলেন। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত খরার কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরই মধ্যে কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে তিল ও বাদাম সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ধানক্ষেতে পানি জমে বীজ গজিয়ে পড়েছে, ফলে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক মো. আলম বলেন, তিনি প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৪০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অন্তত ৮০ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
অন্যদিকে কুলছুমবাগ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক খোরশেদ আলম ও সিরাজুল হক মাঝি জানান, তারা বাদাম, ধান ও আলু চাষ করেছিলেন। ধান কিছুটা ভালো থাকলেও বৃষ্টির পানি জমে আলু ও বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে পরিপক্ব হওয়ার আগেই আলু তুলতে হচ্ছে এবং বাদামগাছ জমিতেই মরে রয়েছে। কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, অনেক কৃষকের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, কৃষকদের ধান অধিকাংশই পেকে গেছে। এখন ধান পানির নিচে থাকলেও ২-১ দিনের মধ্যে পানি সরে যাবে। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সুযোগ পেলেই যেন তারা দ্রুত ধান কেটে মাঠ থেকে ঘরে তুলে নেন।
এসএফ/আরএন