সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে গত এক বছরে বিভিন্ন বাহিনীর ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’সহ বিভিন্ন অভিযানে করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই ও আসাবুর বাহিনীসহ একাধিক দস্যু চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। অভিযানে ৪৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৮৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ২টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
এ সময় দস্যুদের কবল থেকে ৩৭ জন জেলে, ২ জন পর্যটক ও ১ জন রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। এর অংশ হিসেবে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া সুন্দরবননির্ভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে নজরদারি বাড়ানোয় দস্যুতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।
এসএমএস/এসআর