খুলনা মহানগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তিনি এ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলে জানান।
রোববার সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত ‘ফিডব্যাক ওয়ার্কশপ অন লোকাল প্রিপেয়ার্ডনেস প্ল্যান (এলপিপি)’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শুধু খুলনা নয়, দেশের বড় বড় শহর ও পৌরসভাগুলোও জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। তিনি জানান, সরকার বর্জ্য, মশা ও ধুলামুক্ত সবুজ নগরী গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শহরের পরিধি বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন অবকাঠামো। এ প্রেক্ষাপটে মানুষের প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার সামনে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি (এলজিসিআরআর)’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনসহ বিভাগের ৩৬টি পৌরসভার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, এলজিসিআরআর প্রকল্পের গাইডলাইন অনুযায়ী খসড়া এলপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৫ সদস্যের প্রিপারেশন টিম ও ৮ সদস্যের রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঝুঁকি নিরূপণ, জরুরি সাড়া পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ চিহ্নিতকরণ সম্পন্ন করা হয়।
এলপিপি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবসৃষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরি করা।
এলজিসিআরআর প্রকল্পের ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক আবু ইউসুফ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলজিইডি খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান এবং কনসালট্যান্ট টিম লিডার মোজাক্কা জাহের।
এতে কেসিসির প্রকৌশলীদের পাশাপাশি খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
এসএমএস/এসআর