ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
মহান মে দিবস আজ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:৫৯ এএম আপডেট: ০১.০৫.২০২৬ ৭:১১ পিএম
X

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন। 

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে-মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের দিন হিসেবেও বিবেচিত।

বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা সব খাতেই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যা দেশের প্রধান রপ্তানি খাত, সেখানে লাখো শ্রমিকের ঘাম ও শ্রমে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার। কিন্তু এই অবদানের বিপরীতে শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে কতটুকু এ প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০০৬ সালের শ্রম আইন এবং এর পরবর্তী সংশোধনীগুলো শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা, মজুরি, ছুটি, নিরাপত্তা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে। 

তবে বাস্তবতার চিত্র সবসময় আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই শ্রম আইন যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হয় না। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিকখাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এখনও আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

মে দিবস এলে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা এসবই শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি পোশাক খাতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও অন্যান্য খাতে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাত্রা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত।

অন্যদিকে, প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজারেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অটোমেশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, গিগ ইকোনমি এসবের কারণে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে অনেক শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃপ্রশিক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শ্রমিক কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্প এসব উদ্যোগ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। 

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা বাড়াতে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

মে দিবসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা। আমাদের সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। অথচ একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে তার শ্রমশক্তির ওপর। তাই শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষেরও দায়িত্ব। শ্রমিকদের প্রতি সহমর্মিতা, সম্মান ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করাই হতে পারে মে দিবসের প্রকৃত চেতনা। 

বিশ্বায়নের এই যুগে শ্রমিক অধিকার শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক বিষয়ও বটে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, যা অনুসরণ করা প্রতিটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি, বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর শিল্পখাতে।

এবারের মে দিবস এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবমিলিয়ে শ্রমিকদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই এই বাস্তবতায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আরও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মে দিবস আমাদের শুধু অতীতের সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয় না, বরং ভবিষ্যতের পথনির্দেশও দেয়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই হতে পারে এই দিনের মূল বার্তা।

মহান মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের প্রত্যাশা, শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হবে। তাহলেই শিকাগোর সেই আত্মত্যাগ সার্থক হবে, এবং গড়ে উঠবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ।

এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝