টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। একদিকে পানিতে ডুবে যাচ্ছে জমির ফসল, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কাটা ও মাড়াইকৃত ধান।
কৃষকরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় হাওরের নিচু জমিতে হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না। ফলে এসব জমির ধান কাটায় নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষি শ্রমিকের উপর। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় দৈনিক এক হাজার টাকা মজুরীতেও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক।
এছাড়া, বাড়তি খরচে ধান কেটে কোনো রকমে খোলায় আনলেও কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে ধানে দুর্গন্ধের পাশাপাশি চারা গজাচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের মো. আব্দুল হামিদ গাজী বলেন, 'এই বছরের মত দুর্গতি গত কয়েক বছরের মধ্যে হয়নি। অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না। বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। আমাদের জমিতে হারভেস্টার মেশিনও আসে না।'
কৃষক হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, 'বেশি টাকা দিয়ে ধান কেটেও স্বস্তি নেই। রোদ না থাকায় খোলায় ধানের স্তুপ পড়ে আছে। রোদের অভাবে ধান নষ্ট হচ্ছে। সব সংকট একসাথে দেখা দিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'অতিরিক্ত বর্ষা বা আকস্মিক বৃষ্টির কারণে কেটে রাখা ধান তলিয়ে যাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের একটি বিষয়। ধান যদি পানির নিচে তলিয়ে যায়, তবে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।'
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ আপনার এলাকার স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ বা সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে তারা আপনাকে সঠিক তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান
সংরক্ষণের উপায় জানাতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, 'টানা বৃষ্টির কারণে কিছু নিচু এলাকার ধান পানির নিচে চলে যাচ্ছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষাণ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। জমিতে পানি দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে সেখানে ধানের ক্ষতি হতে পারে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৬৫ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে।'
এমএইচ/এমএ