টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় টানা ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠে কেটে রাখা বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো ধান কাটা ও মাড়াই করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধনবাড়ীতে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হলেও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক কেটে রাখা ধান রোদে শুকাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক জমিতে ধান কেটে শুকানোর জন্য রেখে দিয়েছেন। কোথাও পালা করে রাখা ধান পানিতে ভিজে যাচ্ছে, আবার কিছু জমিতে ধান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ফলে শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানান, এবার চাষাবাদে খরচও বেশি হয়েছে। দীর্ঘ খরার কারণে অতিরিক্ত সেচ ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলন ভালো হলেও অনিয়মিত বৃষ্টিতে সেই ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বীরতারার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিলের মধ্যে দুই বিঘা জমির ধান বৃষ্টির পানিতে প্রায় শীষ পর্যন্ত ডুবে গেছে। সময়মতো কাটতে ও মাড়াই করতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
এদিকে ঝড়ের কারণে উপজেলার বাজিতপুর, শ্যামলার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এতে গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও এতে সমস্যায় পড়েছেন।
বাজিতপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঝড়ে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে চরম দুর্ভোগে আছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, “এবার উপজেলায় ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির কারণে সমস্যা তৈরি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে এলে কৃষকরা আবার ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করতে পারবেন।”
ধনবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিথুন বিশ্বাস জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে।
এইচআর/এসআর