দেশের সড়ক অবকাঠামোর নাজুক অবস্থা তুলে ধরে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সারা দেশে রাস্তা মেরামত ও সংস্কারে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সড়ক প্রকল্প নিয়ে উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সরকার দলীয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নাটোরে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়ে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ব্যয়ের কথা বলা হলেও বাস্তব অগ্রগতি প্রত্যাশিত ছিল না।
মন্ত্রী বলেন, “জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক—সব ধরনের সড়কের অবস্থা বর্তমানে জরাজীর্ণ, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সড়ক অবকাঠামো টেকসই ও উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কারের দাবির মুখে পড়েন। গত দুই মাসে তিনি যে ডিও লেটার পেয়েছেন, তাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এসব রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা জানেন। আমার জানামতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো এই মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিগত দিনের হিসাবে।’
এই বাস্তবতায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প বাছাই করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সব দলের সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে সমস্ত প্রকল্প একান্তই দরকার, সেলগুলোকে চিহ্নিত করে মাননীয় মেম্বার অব পার্লামেন্ট এখানে সব দলের যাঁরা আছেন, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার নিশ্চয়ই আগামী দিনের বাজেটে এই প্রকল্পগুলি আনবেন।’
মন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়ন বা বৈদেশিক সহায়তার সমন্বয়ে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
এর আগে নাটোর শহরের যানজট নিরসনে এনএস সরকারি কলেজ থেকে বেলঘরিয়া বাইপাস পর্যন্ত ফ্লাইওভার এবং রেলগেটের নিচে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি তোলেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, নাটোর শহরের রেল ক্রসিং এলাকায় যানজট কমাতে প্রাথমিকভাবে ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এনএস সরকারি কলেজ থেকে বেলঘরিয়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রস্তাবও আগে সংসদে তোলা হয়েছিল। এখন সেটির জন্য সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের স্থবিরতা নিয়েও কথা বলেন সড়কমন্ত্রী। কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর (আবুল হাসনাত) নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছিল। তবে তিনি জানান, মার্চ ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের তালিকা থেকে প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল সড়ক উন্নয়নকাজে এই মুহূর্তে কোনো বৈদেশিক অর্থায়ন নেই।
মন্ত্রী বলেন, এখন প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে হবে নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ জোগাড় হবে, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাইল পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার অংশে কাজ চলমান আছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে রিজিড পেভমেন্ট ও প্রশস্তকরণের কাজও ধাপে ধাপে শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, কুমিল্লা-সিলেট সড়কে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তিতে আছে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যাচ্ছে না। জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, অর্থায়নের নিশ্চয়তা হলেই বাকি অংশের কাজ শুরু হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।’
এসআর