দুই সপ্তাহের তীব্র দাবদাহের পর মাত্র দুই মিলিমিটার বৃষ্টিতেই কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। সড়কে কাদা ও পানি জমে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিপাত হলেও তাতেই শহরের শতাধিক স্থানে জলাবদ্ধতা ও কাদার সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকার নালার পানি উপচে সড়কে উঠে এসেছে। হোটেল-মোটেল জোনের বাইপাস সড়ক, বাজারঘাটা, টেকপাড়া, গোলদিঘিরপাড়, বিজিবি ক্যাম্প, আলীর জাহালসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়। অধিকাংশ নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাদামাটি জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পৌরসভার উদ্যোগে নালা পরিষ্কার করা হলেও পাহাড়ি মাটি গড়িয়ে এসে দ্রুতই তা আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে কাদা জমছে। এদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের পর্যাপ্ত তদারকি না থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু নালা পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পাহাড় কাটা বন্ধ, পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ বাঁকখালী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই শহরের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী, সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়া ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে কলাতলী পর্যটন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
কক্সবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের জলাবদ্ধতার পেছনে চারটি প্রধান কারণ রয়েছে—নালা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বাসাবাড়ির বর্জ্য নালায় ফেলা এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন।
পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, গত মার্চ মাস থেকে ১২টি ওয়ার্ডে নালা পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং অধিকাংশ নালা পরিষ্কার করা হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, গত এক দশকে উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতার মতো মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে। উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং পাহাড় কাটার মাটি ড্রেনে জমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ।
নাগরিক সংগঠন ‘সমৃদ্ধ কক্সবাজার’-এর ভাইস চেয়ারম্যান আদনান সাউদ বলেন, পরিকল্পনা ছাড়াই বিমানবন্দর উন্নয়নকাজের সময় শহরের একটি বড় নালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা আগে শহরের অধিকাংশ পানি সাগরে নিষ্কাশনে সহায়ক ছিল। এর ফলে বর্তমানে জলাবদ্ধতা বেড়েছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পাহাড় কাটার মাটি ড্রেন ভরাট করে ফেলছে। এছাড়া সড়ক সংস্কারের সময় পুরোনো কালভার্ট উঁচু না করেই রাস্তা নির্মাণ করায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোটেল শৈবালের সামনে বড় নালার ওপর রাস্তা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন আরও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তফা মুন্সী জানান, প্রধান সড়কের কাদা জমা স্থানগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পাহাড়ি মাটি অপসারণ করা হবে।
এএইচএসইউ/এসআর