নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন ঘটনার এক যুগ পূর্তি হলেও আদালতের রায় এখনো কার্যকর হয়নি। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোমবার বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে আইনজীবীদের একটি এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নিহত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
আইনজীবীদের মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব ও শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং সাত খুন মামলার প্রধান আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন প্রধান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ২০১৪ সালে দেশে এখনকার মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না; তখন ছিল ফ্যাসিস্ট শাসন। তখনও এ ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়েছে আইনজীবী, নিহতের পরিবার ও সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, সাত খুন ও ত্বকী হত্যা মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ওসমান পরিবারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা নানা ধরনের নিরাপত্তা সুবিধা পেয়েছিল। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করছে, তাই অপরাধী যেই হোক, তার বিচার হতে হবে।
সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা নিহতের পরিবারগুলোকে নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। মামলাটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এখন আমরা আশাবাদী। আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা মনে করি, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে; তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এই বিচারটি সারাদেশের মানুষ দেখতে চায়। এ রায় দৃষ্টান্ত হিসেবে কার্যকর হলে খুন-গুমের সঙ্গে জড়িতদের জন্য এটি শিক্ষণীয় হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নিহত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী আরেকটি মানববন্ধন করেন। তারা বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান, দ্রুত এ মামলার রায় কার্যকর করা হলে নিহতদের আত্মাসহ সবার শান্তি আসবে। মানববন্ধনে পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে ৭ খুন ঘটনার চার মাস পর জন্ম নেওয়া একটি শিশুও তার বাবার হত্যার বিচার দাবি করে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দরের শান্তিরচর এলাকা থেকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম—এই সাতজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এসএস/আরএন