আমদানিকৃত পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে এবং বন্দরে ড্যামারেজ (ক্ষতিপূরণ) কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
শনিবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত পণ্যের ছাড়পত্র দ্রুত পাওয়া যাবে এবং বন্দরে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সিটিজেন চার্টারে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও কম সময়ে আমদানিকৃত পণ্যের ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিল্প সচিব বলেন, সরকার সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা করে না; বরং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যায় সরকার পাশে থাকবে।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম এ কামাল বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, সিটি গ্রুপ, ওয়ালটন, এসিআই, পোলার আইসক্রিম, অলিম্পিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি লিমিটেড, অলিম্পিয়া বেকারি, ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্মস ও পিয়ারলেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
গণশুনানিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—নকল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎস শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যের মান নির্ধারণে এসআরও প্রকাশের সময়সীমা কমানো, প্রয়োজন অনুযায়ী ফুড গ্রেড রঙ ব্যবহারের আগে বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা নিশ্চিত করা, সুগার ও নন-সুগার রুটি-পাউরুটির মান একীভূত করা এবং লাইভ বেকারিগুলোতে নজরদারি জোরদার করা।
গণশুনানিতে বিএসটিআই মহাপরিচালক বলেন, ব্যবসায়ীরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের সেবায় কোনো ঘাটতি থাকলে প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আরও জানান, এসআরও প্রকাশের সময় কমানো এবং পণ্যের মান প্রণয়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ চলছে। আলোচিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
এসআর