রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা।
এপ্রিল মাস থেকে সারা দেশের মতো কাপ্তাইয়েও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী পাভেল হোসেন ও শারমিন জাহান জানায়, দিনে কিংবা রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছে।
অভিভাবক ফিরোজ মিয়া ও সোলেমান হোসেন বলেন, অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারছে না। তারা অন্তত পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও। কয়েকটি কারখানার মালিক জানান, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অর্ডার বাতিল হচ্ছে, এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সাধারণত ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। তবে বর্তমানে পানি স্বল্পতার কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াটে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, একটি লাইন বন্ধ রেখে অন্যটি চালু রাখার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরীক্ষার্থীদের বড় ধরনের সমস্যা হবে না এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
কেএইচ/এসআর