নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব সস্তাপুর কায়েমপুর এলাকায় ভয়াবহ আগুনে একাধিক ঝুটের গুদাম, রিকশার গ্যারেজ, বেকারির গুদাম, মোটরসাইকেলসহ অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পূর্ব পাশে, জেলখানা-সংলগ্ন কায়েমপুর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। এ সময় অল্পের জন্য রক্ষা পান কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, একটি ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের একটি চায়ের দোকান, একটি মোটরসাইকেলের দোকান এবং আরও কয়েকটি ঝুটের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় এলাকাবাসী আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কায়েমপুর এলাকায় জেলা কারাগারের কাছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে সরকারি জমিতে টিন দিয়ে তৈরি ঘরে গার্মেন্টস থেকে আনা ঝুট বাছাই করে বিক্রি করা হয়। ওই গুদামে আশরাফ, সালাম, মিন্টু, লাল মিয়া, রফিক ও মমিনসহ ৮-১০ জন ব্যবসা করেন। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ ওই গুদাম থেকে আগুনের শিখা উঁচু হয়ে ওঠে এবং দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আশপাশের গ্যারেজ, গুদাম ও দোকানে আগুন ধরে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের হাজীগঞ্জ ও মণ্ডলপাড়া স্টেশনের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও চারটি ইউনিট যোগ দিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে গুদামে থাকা সব ঝুট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পাশের সুগন্ধা বেকারির গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্যও পুড়ে যায়। এছাড়া পাশের একটি বহুতল ভবনের এক পাশের দেয়াল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এনটিভির ক্যামেরাপার্সন তারেক স্বপন জানান, অল্পের জন্য তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে তারা যে ভবনে থাকেন, সেটিতেও আগুন ধরে যেতে পারত। ইতোমধ্যে ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আতঙ্কে পরিবার নিয়ে ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন।
এদিকে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ফেরদাউস নামে একজন বলেন, ছোট একটি গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘরটি তালাবদ্ধ থাকায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। পরে আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে ১৫টি ঝুটের গুদাম ছিল। আমার তিনটি দোকান ছিল—সব মিলিয়ে প্রায় ২০টি দোকান। প্রতিটি দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল।
বাবু নামে আরেকজন বলেন, একটি ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এখানে ২০টি দোকান ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঢাকা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে প্রথমে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরও চারটি ইউনিট যোগ করা হয়। চারদিক থেকে চেষ্টা চালিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পাশের ১০ তলা ভবন থেকে কিছু লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি; তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে ঝুট কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে ১০ থেকে ১২টি দোকান ছিল। পাশে একটি বড় ভবন রয়েছে। আটটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এসএস/আরএন