দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আবারও নামছে নিস্তব্ধতা। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। কার্পজাতীয় মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ থেকেই রাঙামাটির বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ ঘাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। চিরচেনা কর্মব্যস্ততার পরিবর্তে এখন চলছে সরঞ্জাম গুছিয়ে নেওয়ার তোড়জোড়। ব্যবসায়ীরা তাদের ড্রাম ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, আর শ্রমিকরা মাছ ধরার নৌকাগুলো সারিবদ্ধভাবে ঘাটে বেঁধে রাখছেন। ইতোমধ্যেই স্থানীয় বরফকলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হ্রদের বুকে যে কর্মযজ্ঞ চলত, সেখানে এখন কেবল নিস্তব্ধতা নামার অপেক্ষা।
হ্রদনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত মৎস্যজীবী ও শ্রমিকদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় জীবন-জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ হয়েছে এবং ২৫ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিএফডিসি ঘাটে মাছ অবতরণ করা যাবে। বন্ধকালীন সময়ে কেউ যাতে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহন করতে না পারে, সে জন্য অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও বিকাশের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল কার্ডধারী জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হবে।
এসকে/আরএন