মুন্সীগঞ্জে মাদক বেচাকেনায় বাধা ও আটককৃত মাদকব্যবসায়ীদের পুলিশে হস্তান্তরের চেষ্টাকালে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদকব্যবসায়ীদের লাঠিপেটায় ছাত্রদল নেতা নিরিব (২৫), পাভেল (২১), কবীর (৩২)সহ ৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পাঁচঘড়িকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদের মধ্যে কবীর চৌধুরী (৩২) নামে বিএনপির এক কর্মীর হাত-পা ভেঙে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে মাদকব্যবসায়ীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় কবীরকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আশরাফুল আরেফীন নিরব জানান, তাদের পাঁচঘড়িয়াকান্দি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনা চলছে। মাদক প্রতিরোধে গত সপ্তাহে তারা এলাকায় বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে সুমন, টিটুসহ ৪ জন মাদকব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে আটককৃত মাদকব্যবসায়ীদের পুলিশে দেওয়ার জন্য থানায় আনার চেষ্টাকালে স্থানীয় জীবন কমিশনারের ভাই শিপু, নুরুদ্দিন, জুয়েল, আসলাম, মাইজ্জা, শুভ, লিটন, সজীবসহ ১০–১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মাদকব্যবসায়ীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় কবীর চৌধুরীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয় এবং মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে।
আহত কবীর চৌধুরী জানান, ফুটবল প্রতীকের মাদকব্যবসায়ীরা তাকে হত্যাচেষ্টা করে এবং “ধানের শীষে” নির্বাচন করার শখ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে জীবন কমিশনার জানান, মাদক নিয়ে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বে মারামারি হয়েছে। তারা এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে আটককৃতদের পুলিশ ডেকে এনে হস্তান্তর করা উচিত ছিল। তার ভাই শিপু কোনো মাদকব্যবসায়ী নন এবং শিপু মারামারি বন্ধ করতে গিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে, এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আশরাফুল আরেফীন নিরব বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে জানান এবং বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ/আরএন