যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৫৩১)-এ এসএসসি ২০২৬ সালের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষায় ২০২৬ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায়। জানা যায়, ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এদিন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ২০৬ নম্বর কক্ষে ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী বুঝতে পারে যে সে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, অথচ সে নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী।
পরে বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে একে একে আরও ১২ জন পরীক্ষার্থী একই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে কেন্দ্রের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষার্থীদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ১২ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—একই কেন্দ্রে, একই কক্ষে, একই বিষয়ের জন্য কীভাবে দুটি ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো? হল সুপার, কেন্দ্র সচিবসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভূমিকা কী ছিল? তারা আগে থেকেই প্রশ্নপত্র যাচাই করেননি কেন? এ ঘটনার দায়ভার কে নেবে? এ সময় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
অভিভাবকরাও প্রশ্ন তুলেছেন—কীভাবে ভুল প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে এলো এবং এই ভুলের দায়ভার কে নেবে? তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রের হল সুপার ও সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, “আমরাও বিভ্রান্ত—কীভাবে একই কক্ষে একই বিষয়ের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র এলো। আমরা এই ১২ জন শিক্ষার্থীর বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করব।”
শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, “এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার পরিস্থিতি হয়নি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এসকে/আরএন