পটুয়াখালীর দশমিনায় সবুজবাগ খালের উভয় তীরে তীব্র ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, থানা কমপ্লেক্স, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অর্ধসহস্রাধিক ঘরবাড়ি। ভাঙন রোধ ও টেকসই রাস্তা নির্মাণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের সামনে সদর রোডে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে উপজেলা সদরের সবুজবাগ ও চরহোসনাবাদ এলাকার কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়।
উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডা. গোলাম মস্তফার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক দশমিনা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আবদুল হক, দশমিনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা তোহামিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক যোবায়ের হোসেন আক্কাস, উপজেলা জামায়াতে ইসলামির আমীর মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, সবুজবাগ ও চরহোসনাবাদের অসংখ্য ঘরবাড়ি খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ অবস্থায় দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দশমিনা থানা কমপ্লেক্সের উত্তরাংশ এবং দুই পাড়ের অধিকাংশ ঘরবাড়ি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
দশমিনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি অবজারভার প্রতিনিধি শাহজাদা তোহামিন বলেন, সবুজবাগ ও চরহোসনাবাদের মধ্যবর্তী খাল ২০ বছর আগেও মাত্র ১৫ ফুট চওড়া ছিল। দুই দিক থেকে আসা দুটি ছোট নৌকা বা ট্রলার একে অপরকে অতিক্রম করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। কালের আবর্তে খালের দুই পাড় ভেঙে বর্তমানে এটি ৯০ ফুট চওড়া হয়েছে। কোথাও কোথাও এর প্রস্থ শতাধিক ফুট। ফলশ্রুতিতে দুই পাড়ের মূল দুটি রাস্তাসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ির সম্মুখভাগ ভেঙে খালটির গর্ভে বিলীন হয়েছে।
প্রতিনিয়ত ভাঙনের কারণে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি বিলীন হওয়া অব্যাহত রয়েছে। শুধু পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িই নয়, বাংলাদেশ পুলিশের দশমিনা থানা কমপ্লেক্স, দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সবুজবাগ জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও রয়েছে ভাঙনের হুমকির মুখে।
ভাঙনের কারণে খালের দক্ষিণ পাড়ের দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখ গেট থেকে খালপাড় হয়ে দশমিনা সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার সবুজবাগের প্রধান সড়কটি আরও ১৫ বছর আগে খালে বিলীন হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বাড়িঘরের মধ্য দিয়ে জনচলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হলেও তা বিভিন্ন স্থানে ভেঙে এখন অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
একইভাবে উত্তর পাড়ের চরহোসনাবাদ বাজার থেকে দশমিনা সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি ভেঙে বিলীন হওয়ার পর বিকল্প নতুন সড়ক নির্মাণ করা হলেও তা বিভিন্ন স্থানে হুমকির মুখে রয়েছে। খালটি দিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ড্রেজার, বালুভর্তি বাল্কহেড এবং টপ বালুবাহী বড় কার্গো দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলাচল করছে।
এছাড়া উভয় পাড়ে যত্রতত্র এসব ভারী নৌযান নোঙর করে বালু আনলোড করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পানির গতির চাপ বেড়ে গিয়ে পাড়ভাঙন তীব্র হচ্ছে।
দশমিনা উপজেলার জন্মলগ্ন থেকেই উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাস করেও জনচলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত সবুজবাগ খালপাড়ের বাসিন্দারা। তারা দ্রুত খালটির উভয় পাড়ের ভাঙন প্রতিরোধে আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ এলাকায় স্থায়ী বাঁধ বা স্লুইস গেট স্থাপন, দশমিনা বাজার থেকে সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত খালের উভয় পাড়ে আরসিসি পাইলিং, প্যালাসাইডিং বা ব্লক নির্মাণ এবং টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
জানা যায়, এক সময় দশমিনা সদর থেকে হাজীরহাট লঞ্চঘাট পর্যন্ত সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, পটুয়াখালী জেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য খালটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমানে এসব সড়ক পাকা হওয়ায় খালটির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা দ্রুত খালের ভাঙন রোধ ও টেকসই রাস্তা নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব মুঠোফোনে দ্য ডেইলি অবজারভারকে বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই ওই এলাকা সার্ভে করব এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সালেহ আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, “আমি সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। বিষয়টি প্রকৌশলীর মাধ্যমে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসটি/আরএন