কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় টানা ১২ দিন ধরে পেট্রোল সংকট চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। জ্বালানি সংকটে নিত্যনৈমিত্তিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।
উপজেলার বিভিন্ন সড়কে আগের তুলনায় মোটরসাইকেলের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। তেল না পাওয়ায় অধিকাংশ বাইকারই তাদের যানবাহন চালাতে পারছেন না।
কিছু সংখ্যক বাইকার বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল কিনে চলাচল করছেন। তারা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা এলাকার বাইকার আব্দুল খালেক বলেন, তেল সংকটের কারণে কয়েকদিন ধরে বাইক বন্ধ রেখে দিতে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সম্প্রতি দুই লিটার পেট্রোল ৭০০ টাকায় কিনে কাজ সারতে হয়েছে।
বড়ই এলাকার শিক্ষক বিবেকানন্দ রায় জানান, তার কর্মস্থল বাড়ি থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে। পেট্রোল না পাওয়ায় তাকে অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই সংকট কবে কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।”
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মইনুল ইসলাম লেবু, মনোরঞ্জন সেন ও গংগাহাট এলাকার জিয়াউর রহমান। তারা বলেন, তেলের সংকটে প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় জ্বালানি ব্যবসায়ী মেসার্স হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হক সরকার বলেন, গত ১২-১৩ দিন ধরে ফুলবাড়ীতে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাম্প না থাকায় মেসার্স স্বপন ট্রেডার্স ও তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রশাসনের মাধ্যমে পেট্রোল কোম্পানির কাছে যথাক্রমে ২ হাজার ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল সরবরাহের আবেদন করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার জানান, আগামী শনিবারের মধ্যে পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ভুক্তভোগীরা স্বস্তি ফিরে পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এসিআর/এসআর