খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় আগুনে পুড়ে যাওয়ার দুই দিনের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পোষাতে পাশ্ববর্তী একটি মুরগির খামারে শুরু হয়েছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের জানান, আগুনে পোড়ার ক্ষত শুকানোর আগেই মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গত ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকা পাশ্ববর্তী একটি মুরগির খামার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করে অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য অস্থায়ী স্থাপনায় পাঠদান শুরুর লক্ষ্যে বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মেরামত বা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও শিক্ষা উপকরণসহ ছয়টি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরটি রক্ষা করা যায়নি।
তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে—বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কিছু—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করে জানানোর কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
জানা যায়, ২০২২ সালে খাগড়াছড়ির তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবং রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কলাবাড়ী এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কেএস/আরএন