পঞ্চগড়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় ১০ জন ডাকাত সদস্য গ্রেপ্তারসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার এবং মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ইসলামবাগ গ্রামের পাচকেল (৬০), দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের প্রদীপ রায় (৩৮), চিরিরবন্দরের ভূষীর বন্দর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলাম (৩০), দক্ষিণ নসরতপুর গ্রামের মো. মমিন ইসলাম (৩৮), কোতয়ালী থানার কেলবাড়ী গ্রামের মো. বাবুল হোসেন (৫৪), রংপুরের কোতয়ালী থানার অতিরামপুর হাজীপাড়ার মো. আ. সালাম (৫৮), বৈকণ্ঠপুরের মো. খায়রুল ইসলাম (৪৫), জোলাপাড়ার (ঈশ্বরপুর) মো. ফারুক (৩০), বদরগঞ্জের দক্ষিণ বিষ্ণপুর মাঝাপাড়া গ্রামের মো. আবু সুমন (৩০) ও মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার খুলশী কুমুরিয়ার মো. আ. মান্নান (৪০)।
পুলিশ সুপার বলেন, 'পঞ্চগড় জেলা পুলিশ মাদক উদ্ধার, নিয়মিত মামলায় আসামি গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসহ চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল রোববার দিবাগত রাত অনুমানিক আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় মাইক্রোবাসযোগে প্রবেশ করেছে।'
তিনি বলেন, 'এমন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সংলগ্ন পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের আড়ালে একটি মাইক্রোবাস থেকে প্রদীপ রায় ও মো. জহুরুল ইসলাম নামের দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও তাদের নিকট থাকা দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যদ্বয়কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে- তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের সঙ্গীয় আট জন ডাকাত সদস্য ডাকাতির উদ্দেশ্যে সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সদর থানাধীন বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে বাকি আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সদর থানাধীন ৬ নং সাতমেড়া ইউপিস্থ চেকরমারী ঈদগাহ মাঠের সংলগ্ন পাথর গ্যারেজ অফিসের সামনে আম গাছের নিচে বালুর ঢিবি থেকে অস্ত্র উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়। বালুর ঢিবি খনন করে একটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তা ও একটি সাদা প্লাষ্টিকের ব্যাগের ভেতর রক্ষিত ধারালো বড় ছুড়ি একটি, ধারালো মাঝারি ছুরি একটি, কাটার মেশিন দুটি, স্লাইরেঞ্জ দুটি, প্লাস একটি, লাল কালো রং এর কাটার ব্লেড একটি, টিয়া ও কালো কালার হাতলসহ হ্যাক্স ব্লেড দুটি, হাতল ছাড়া হ্যাক্স ব্লেড একটি, হ্যাক্স ব্লেড ১৩টি, লোহার তৈরি তারকাটা উঠানো যন্ত্র একটি, নাট খোলার গুটি রেস্ত একটি, নাটে ব্যবহৃত বিভিন্ন সাইজের লোহার গুটি ছয়টি, পলিথিন ৫০ গ্রাম, রশি ৫০০ গ্রাম, টর্চ লাইট দুটি এবং ডাকাতির কাজে কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃতরা পূর্বে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করেছে বলে স্বীকার করে। তারা পরস্পর যোগসাজসে অবৈধ ভাবে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতি সরঞ্জামাদিসহ ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করায় সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুপূর্বক তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।'
গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, 'তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের একজনের বাড়ি পঞ্চগড়ে। বাকিরা অন্য জেলার।'
তিনি গণমাধ্যম কর্মীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, 'চুরি ও ডাকাতিমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করতে পুলিশ বাহিনী আন্তরিক ভাবে কাজ করছে।'
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সিফাত ই. রাব্বান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফরহাদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবীগঞ্জ সার্কেল) সামুয়েল সাংমা, এএসপি প্রবেশনার মো. যুবায়ের, এএসপি প্রবেশনার মো. মঙ্জুরুল হক ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামসহ গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসআই/এমএ