আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এবার পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রশ্নফাঁস ও নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। সাইবার অপরাধ দমনে জোরদার করা হয়েছে অনলাইন নজরদারি এবং গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল। পাশাপাশি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়েছে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম প্রতিরোধে সাইবার পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্নপত্র থানা থেকে যাঁরা সংগ্রহ করেন, তাঁদের তালিকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নতুন গঠিত মনিটরিং সেলের মাধ্যমে যেকোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত পৌঁছানো এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণব্যবস্থার অনেক কিছুই পূর্ববর্তী সরকারের সময় নির্ধারিত ছিল, বর্তমান সরকার মূলত পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার আওতা ও কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে।
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের যথেষ্ট সময় দিয়ে খাতা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল্যায়ন পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়ার জন্য কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান না হলে শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে কোচিং সেন্টারগুলোর কোনো সরকারি নিবন্ধন বা তালিকা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে।
এসআর