তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মারাত্মক পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ টিউবওয়েল থেকে পানি না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া, তীব্র তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক সময় বাঘা উপজেলার পাশ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত হলেও গত কয়েক বছরে সেটি প্রায় ১০–১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে সরে গেছে। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের পানির স্তরে পড়েছে। ফলে তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং টিউবওয়েলগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে যাদের বাড়িতে ডিপ টিউবওয়েল (জল মটর) রয়েছে, সেখান থেকে পানি নিতে আশপাশের মানুষ ভিড় করছে।
স্থানীয়রা জানান, পানি সংগ্রহ এখন অনেকের জন্য দৈনন্দিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকে দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের। অনেকেই বলেন, আগে টিউবওয়েল থেকে সহজেই পানি পাওয়া যেত। এখন দীর্ঘক্ষণ চাপ দিলেও পানি ওঠে না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ পাঁচ-ছয় ফুট মাটি খুঁড়ে টিউবওয়েলের বডি নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন।
এদিকে পানির সংকটের কারণে তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। পানির অভাবে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না তারা। বাড়ছে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বলেন, “গরমে কাজ করতে পারছি না। পানি না থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। খাওয়ার পানিও ঠিকমতো পাচ্ছি না। মাঠে ধানের আবাদ চলছে, এক সপ্তাহের মধ্যে ধান পাকতে শুরু করবে। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত পানি নেই।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এতে সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, বাঘা উপজেলায় দুটি পৌরসভা রয়েছে—আড়ানী ও বাঘা। এর মধ্যে বাঘা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির। এই পৌরসভা থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য কয়েক বছর আগে মাটির নিচে পাইপলাইন স্থাপন করা হলেও এখনো তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান বাঘা পৌর প্রশাসক শাম্মী আক্তার জানান, “পৌরসভার পানির লাইনের কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এটি চালু করা সম্ভব হবে।”
আরএইচ/আরএন