নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস সময় মানছেন না। সকাল ৯টায় অফিস সময় হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেন বেলা ১১টার পরে। আবার অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত আসেন না অফিসে। অনুপস্থিত থেকেও কয়েকদিন পর এসে স্বাক্ষর করার ঘটনা ঘটছে এখানে নিয়মিত। ফলে কর্মকর্তাদের না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এ উপজেলার সাধারণ মানুষ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সকাল ৯টার মধ্যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস কক্ষে নিয়মিত হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। একইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রথম ৪০ মিনিট (৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট) নিজ কক্ষে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাবে মানছে না মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা। নির্দিষ্ট সময় মতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাজির হচ্ছেন না দপ্তরে। এতে সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা গ্রহীতারা।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা পেরিয়ে গেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কর্মকর্তা ছাড়া অফিসে নেই কোনো কর্মকর্তা। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রাণি সম্পদ, কৃষি, প্রাথমিক শিক্ষা, সিনিয়র মৎস্য, সমবায়, পরিবার পরিকল্পনা, যুব উন্নয়ন, মহিলা বিষয়ক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বেশির ভাগ কর্মকর্তাই দফতরে অনুপস্থিত।
কর্মকর্তার পাশাপাশি অনেক অফিসে পিয়ন ছাড়া অন্য কোনো অফিস স্টাফ নেই। খালি পড়ে আছে তাদের চেয়ার।
সকাল ৯টা ৫০ মিনিটেও তালাবদ্ধ সমাজসেবা ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। পাশের কক্ষে বসে আছেন অফিস সহকারী ও সহায়ক।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদা খানমের কক্ষে একাধিক ফ্যান চললেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
অপেক্ষমাণ সেবা প্রত্যাশী একজন জানান, এই কর্মকর্তা সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন অনুপস্থিত থাকেন।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজা লাগানো থাকলেও ভিতরে একাধিক বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছিল। এই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে সময়মতো অফিসে অনুপস্থিতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ চিত্র প্রতিদিনের। সকাল ৯টা থেকে অফিস শুরু হয়ে নতুন নিয়মে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার আগে অফিসে আসেন না। আবার চলেও যান ৩টার মধ্যেই। আবার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আসেন সপ্তাহে দু-এক দিন।
কর্মকর্তাদের এমন মনগড়া অফিস পরিচালনায় বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার মানুষ। দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়ে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সদুত্তর দেননি। কোথায় অবস্থান করছেন এবং ছুটিতে আছেন কি না সেটাও স্পট করেননি।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ ম শহিদুল্লাহ প্রথমে ছুটি ছাড়া কার্যালয়ে অনুপস্থিত স্বীকার করলেও পরে নরসিংদীতে অবস্থান করছেন বলে জানান।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, 'অফিসে না আসা বা দেরি করে আসার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এইচআর/এমএ