পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী সামাজিক উৎসব শুরু হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রোববার থেকে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু. চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু উৎসব।
পুরাতন বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকার লোকজন সকালে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৪টি ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।
সকাল থেকে পাহাড়ী নারীরা বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করে একে একে চলে আসেন কাপ্তাই হ্রদে। সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ প্রার্থনা করে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেন তারা। এ সময় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে এই ফুল ভাসানোর উৎসবে অংশ নেন পাহাড়ি মানুষ।
পাহাড়ের এই সামাজিক উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পালন করে থাকে। চাকমা সম্প্রদায় একে বিজু, মারামারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু, তংচঙ্গ্যারা বিষু, মুরং সম্প্রদায় চাংক্রান, খুমীরা চাংলান, সাওতালরা পাতা এবং অহমিয়া বা গুর্খারা একে বিহু বলে।
সোমবার মূল বিজু পালিত হবে। ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না করে অতিথি আপ্পায়নের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পালিত হবে গোজ্যেপোজ্যে।
আগামী ১৫ এপ্রিল (বুধবার) কাপ্তাই চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার এলাকায় ও ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্য দিয়ে সামাজিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। তবে মাসব্যাপী এই উৎসব রাঙামাটির বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।
আইকে/এমএ