বরগুনার আমতলীতে রাতের আঁধারে ৮ বিঘা জমির তিন লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে চার হাজার তরমুজ দুর্বৃত্তরা দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরি মেরে নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের ঘামঝরা পরিশ্রমে ফলানো তরমুজ খেতের এ অবস্থা দেখে স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন কৃষক জহিরুল।
ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাতে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম মল্লিকের খেতে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা গ্রামের মজিদ মল্লিকের ছেলে কৃষক মো. জহিরুল ইসলাম মল্লিক হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের বাবুল চৌকিদারের ৮ বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ করে এ বছর তরমুজ চাষ করেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। তরমুজ বিক্রির পর লাভের টাকায় একটি পাকা ঘর বানানোর স্বপ্ন দেখছিলেন জহিরুল। কিন্তু শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তদের দা–এর কোপে তার পুরো তরমুজ খেত নষ্ট হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
খেতের প্রায় সাড়ে চার হাজার তরমুজ দুর্বৃত্তরা দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরি মেরে নষ্ট করে দিয়েছে। কথা ছিল, শনিবার সকালে নওগাঁর পাইকার মতিন সরদার খেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রাকে তুলে নওগাঁ নিয়ে যাবেন বিক্রির জন্য। শুক্রবার রাতে বায়নাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সকালে তরমুজ তুলতে গিয়ে দেখা যায়, খেতের সব তরমুজ কেটে নষ্ট করে রেখেছে দুর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে জহিরুল খেতে ছুটে আসেন। নিজের খেতের এমন সর্বনাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কোনো উপায় না পেয়ে শনিবার সকালে থানায় গিয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে আমতলী থানার এসআই মো. হেলাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, কৃষক জহিরুল ইসলাম হাজার হাজার টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে নওগাঁর এক পাইকার বায়না করেন। শনিবার সকালে তরমুজ নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে খেতে গিয়ে দেখা যায়, সব তরমুজ দা ও ছুরি দিয়ে নষ্ট করে রাখা হয়েছে। এখন এসব তরমুজ আর বিক্রি করা যাবে না। ফলে কৃষক জহিরুলের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
একই গ্রামের বাসিন্দা বাবুল চৌকিদার বলেন, কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে কারও সর্বনাশ করা ঠিক নয়।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মো. জহিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি দেড় লাখ টাকা খরচ করে ৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। শুক্রবার সন্ধ্যায় নওগাঁর পাইকার মতিন সরদারের কাছে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভ হতো। এ বছর স্বপ্ন দেখছিলাম লাভের টাকায় একটি ঘর বানাবো। কিন্তু আমার সেই স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা, খেতের সব তরমুজ দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরি মেরে নষ্ট করে ফেলেছে। কোনো তরমুজই খাওয়ার মতো নেই। আমি ধারদেনা ও ঋণ করে তরমুজ চাষ করেছি। এখন কী দিয়ে ঋণ পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় আছি। আমার ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
আমতলী থানার এসআই মো. হেলাল বলেন, অভিযোগ পেয়ে শনিবার সকালে তরমুজ খেত পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খেত নষ্ট করার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এসকে/আরএন