লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দোকানের আড়ার সঙ্গে বেঁধে মো. কালু নামে এক ইটভাটার শ্রমিককে পিটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ইসমাইল হোসেন নামে ইটভাটার এক মাঝি ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভিরহাট এলাকার স্লুইসগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভাইরাল ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইটভাটা মাঝির বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালু নামে ওই শ্রমিকের দুই হাত দোকানঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে বাঁধা হয়। এরপর ইসমাইল মাঝি একটি লাঠি হাতে ওই শ্রমিককে পেটাচ্ছেন। এ সময় শ্রমিককে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া হয়। পেটানোর মাঝে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হয়।
ভুক্তভোগী কালু কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা।
অভিযুক্ত ইসমাইলের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ইসমাইলের সঙ্গে কালু চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি টাকাও নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রামের ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে কালু অসুস্থতার কারণে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেন। ঘটনার সময় কালুকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ইসমাইল লোকজন নিয়ে ধরে আনেন। পরে ঘটনাস্থলে ইসমাইলের অফিসে (দোকানঘর) দুই হাত বেঁধে নির্যাতন করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে কালুর পরিবর্তে তার ভাইদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। কালু অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়াবাড়ি করবেন না বলে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
কালু মিয়া বলেন, ইসমাইল মাঝি আমাকে তার লোকজন দিয়ে ধরে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করেন। পরে আমার বাড়িতে খবর দেন এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য। মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। মাঝি পালিয়ে গেছে।
ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সে কাজ করছে না। প্রায়ই নানা অজুহাতে কাজ ফেলে চলে আসে। দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখলেও বেশি মারধর করা হয়নি। ভয় দেখানোর জন্য সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত করা হয়।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ভিকটিমকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আরএইচ/আরএন