জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারকে বাজেটের ভর্তুকির বাইরেও অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা বাজেট ও রিজার্ভ—দুটোর ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে।
শুক্রবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমীর খসরু বলেন, “একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই বাস্তবতার বাইরে নয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখেছে। এখন পর্যন্ত পূর্ণ সমন্বয় না করে আগের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যে আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নানামুখী চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে জনগণ সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি ক্ষেত্রে একটি অস্বাস্থ্যকর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং তুলনামূলক উচ্চ সুদের ব্যয় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেন, অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, সংস্কার এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
আরএন