মাদক প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভয়েস ফর এভিডেন্স বেসড প্রিভেনশন: প্রিভেন্ট, ডোন্ট প্রোমোট’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোর ও তরুণ বয়সেই মাদকের প্রতি কৌতূহল ও ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বেশি থাকে। তাই এ সময়েই সঠিক তথ্য, জীবনদক্ষতা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান এবং সাইকোথেরাপি ও সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক। এছাড়া বক্তব্য দেন আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মেম্বার সেক্রেটারি ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।
বক্তারা বলেন, মাদক কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নয়; এটি সমাজ ও আগামী প্রজন্মের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। মাদক প্রতিরোধে প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক কৌশল গ্রহণ জরুরি।
তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময়ে শুধু চিকিৎসা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য ও তরুণবান্ধব করতে হবে। একইসঙ্গে মাদকের সহজলভ্যতা কমানো এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তরুণদের পক্ষ থেকে একটি ‘ইয়ুথ ডিক্লিয়ারেশন’ উপস্থাপন করা হয়, যেখানে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
আলোচনায় তরুণদের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট, সহপাঠীদের নেতিবাচক প্রভাব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করা হয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবারকে প্রতিরোধের প্রথম স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এসআর