বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাঠের পর মাঠজুড়ে সূর্যের হাসি উকি দিচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় স্বল্প সময় পরে থাকা পতিত জমিতে অধিক লাভবানের মুখ দেখছেন সাধারণ কৃষকরা। ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে মাঠগুলো সেজেছে অপরুপ সাজে। এ যেন এক মনোরম দৃশ্য। প্রতিনিয়ত এ সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে আসছেন শত শত মানুষ।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পানগুছি নদীর তীরবর্তী কাঁঠালতলা গ্রাম। এ গ্রামের নদীর চরে ফসলি মাঠে সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলনে অধিক লাভের স্বপ্ন গুনছেন অর্ধ শতাধিক কৃষক পরিবার। দেশি আমন ধান কাটার পরে এক সময় যে জমি গতিত অবস্থায় পরে থাকত সেখানে এ বছর কৃষক চাষাবাদ করেছেন সূর্যমুখীর। আর মাত্র এক মাস পরে ফসল কেটে ঘরে তুলবেন চাষিরা।
কৃষক মনির মোল্লা জানান, এ বছর তার সাড়ে ৪ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন ৪ মাস পূর্বে। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বিজ ও সার পেয়েছেন তিনি। তারপরেও সার কীটনাশক চাষাবাদের মজুরিসহ এ জমিতে তিন হাজার টাকা ব্যয় করে ঘরে তুলতে পারবেন প্রায় ৩ মণ বীজ। যার বাজার মূল্য রয়েছে ১২ হাজার ৬০০ টাকা।
তিনি জানান, প্রতি লিটার এ সূর্যমুখী তেলের বাজার দর রয়েছে ৩০০ টাকারও বেশি। আর মাত্র এক মাস পরে তিনি সূর্যমুখী ফুল কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।
ভালো ফলনে বেজায় খুশি এ কৃষক।
এ রকম যদি প্রতি বছর ফলন হয় তাহলে প্রতি বছরই সূর্যমুখী চাষাবাদে ঝুঁকবেন কৃষক। এ রকম সূর্যমুখী চাষ করেছেন রহমান হাওলাদার ৬০ শতক জমিতে, সগির ঘরামি ৬৬, আলতাব শেখ ২ বিঘা জমিতে, খালেক শেখ ১ বিঘা জমিতে, জাকির ঘরামী ১০ শতক, চান মাঝি ১ বিঘা, মহারাজ খা ১০ শতক জমিতে। সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কাঁঠালতলা গ্রামের এ কৃষকরা।
তারা বলছেন, বাজারের নানাবিধ ভেজাল সয়াবিন তেল পরিহার করে নিজেদের উৎপাদিত সূর্যমুখী তেল থেকে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বাজারজাত করতে পারবেন সূর্যমুখীর এ ভোজ্যতেল।
এদিকে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় চলতি বছরে ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষাবাদ করেছেন কৃষক। এর মধ্যে মোরেলগঞ্জ সদর ও পৌরসভায় ১০০ বিঘা, বলইবুনিয়া ইউনিয়নে ৭৫ বিঘা, খাউলিয়া ৬০ বিঘা, পুটিখালী ৫০ বিঘা, নিশানবাড়িয়ায় ৩০ বিষা, পঞ্চকরণ ২৫ বিঘা, হোগলাবুনিয়া ২৫ বিঘা, দৈবজ্ঞহাটি ১৫ বিঘা, বারইখালী ১০ বিঘা ও চিংড়াখালী ১২ বিঘা জমিতে এ ফুলের চাষ হয়েছে।
একে/এমএ