টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক পল্লী চিকিৎসকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের কেরামজানি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুত্বর আহত পল্লী চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন (৫০) ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত পল্লী চিকিৎসক শাহাবুদ্দিনের পরিবারের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পল্লী চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন স্থানীয় কেরামজানি মসজিদে নামায আদায় করতে গেলে একই এলাকার হাতেম আলী ও তার ছেলে মামুন (২২), তুফাইনা মন্ডলের ছেলে রাজু মিয়া (৫৫), ও তার ছেলে আঃ রহমান (১৮),সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন তাদের হাতে থাকা ধারালো দা, চাপাতি, দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এসময় তার ডাক চিৎকারে আশ পাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নেয়ার পথে বিবাদীগণ বাঁধা প্রদান করে আবারো মারপিটের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে ঘটনারদিন রাতেই পল্লী চিকিৎসক শাহবুদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ চামেলী খাতুন (৩৫) ধনবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আহত পল্লী চিকিৎসক শাহবুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যায় নামায আদায় শেষে মসজিদে আমাকে বিবাদী হাতেম আলী ও তার ছেলে মোঃ মামুন গংরা এলোপাথারি মারপিট ও মাথায় কুপিয়ে আহত করে। এসময় বিবাদীরা মামলা না করার জন্য আামাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। গুরুত্বর আহতবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। মামলা করার পর থেকেই বিবাদীরা মামলা থেকে বাঁচার জন্য নানাভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করতেছে। প্রশাসনের কাছে হত্যাচেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সঠিক বিচার দাবী করছি।
আহত পল্লী চিকিৎসক শাহবুদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ চামেলী খাতুন বলেন, আমার স্বামী পেশায় একজন পশু চিকিৎসক। তাকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যার উদ্দ্যেশে হাতেম আলী ও তার ছেলে মোঃ মামুন গংরা এলোপাথারি মারপিট ও মাথায় কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এঘটনায় আমি হত্যা চেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
এ বিষয়ে বিবাদী হাতেম আলীদের বাড়ীতে জানতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। আহত পল্লী চিকিৎসক শাহবুদ্দিন কেরামজানি এলাকার মৃত সোহরাব সরকারের ছেলে।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনজার্জ (ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচআর/এসআর