নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়কে রশি টেনে মোটরসাইকেল আরোহীদের জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ৩১ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে পোরশা থানার সরাইগাছি-খাট্টাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর রশি টেনে একদল ডাকাত প্রথমে একটি মোটরসাইকেলের তিন আরোহীকে আটক করে। পরে আরও একটি মোটরসাইকেল আসলে সেটিকেও একইভাবে থামিয়ে মোট ৬ জনকে জিম্মি করা হয়।
ডাকাতরা হাসুয়া, ছুরি ও লাঠি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে। এরপর তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পর মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ। পরবর্তীতে টানা অভিযানে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাটসহ নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী এলাকার মোঃ গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), সাপাহার উপজেলার খোট্টাপাড়া এলাকার মোঃ আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩), এবং মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬)।
পুলিশ সুপার জানান, শ্যামলের টংঘর থেকে হাসুয়া, ছুরি, হাতুড়ি, প্লাস, টর্চলাইট, রশি, মাস্কসহ ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে আবু তাহের ও তার ছেলে কামালের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মোস্তাক আহমেদ জাহিদুলের বাড়ি থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিসকভার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক চুরি, ডাকাতি ও মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।
কেএইচ/আরএন