রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থিত ‘পার্কভিউ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অনুমতি ছাড়াই পুলিশের অভিযান চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে উক্ত রেস্টুরেন্ট ও বারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখানে অবস্থানরত ৩৫ জনকে আটক করে দারুস সালাম থানায় নেওয়া হয়। পরদিন বুধবার থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে পার্কভিউ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের ম্যানেজার শতদল বড়ুয়া বিলু বলেন, রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে আসা অতিথিদের যেভাবে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার দাবি, আটককৃতরা কেউ মদ্যপান করেননি। ফলে তাদের কাছে মদ্যপানের পারমিট থাকার কোনো বাধ্যবাধকতাও ছিল না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আটক ব্যক্তিদের কোনো ধরনের ডোপ টেস্ট করা হয়নি। অথচ তারা বারে অবস্থান করায় ডোপ টেস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা যেত। তা না করে সরাসরি অ্যালকোহল সেবনের অভিযোগ এনে পরদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ২০ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বলে মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের স্থানে প্রবেশ ও পরিদর্শন করার ক্ষমতা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অথবা তাহার নিকট হইতে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসারকে দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই ক্ষমতা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক পর্যন্ত অর্পণ করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে উপপরিচালক (ঢাকা উত্তরা জোন) শামীম আহমেদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী অধিদপ্তরের অনুমতি ও তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া বৈধ বারে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কোনো অভিযান পরিচালনার কোনো এখতিয়ার নেই।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সম্প্রতি ‘র ক্যানভাস’ নামে একটি বারে অনুমতি ছাড়াই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানের ঘটনায় ইতোমধ্যে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে চিঠি দিয়ে অভিযানের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ২০ থেকে ২৩ ধারা পর্যন্ত বারে অভিযানের বিষয়ে বলা রয়েছে। আইনের ২০ ধারায় বারে প্রবেশের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালককে। এই ধারায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত বারে মহাপরিচালক বা তার নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রবেশ, জব্দ ও তল্লাশি করতে পারবে। তবে অন্য কোনো বাহিনীর কথা বলা নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ওসি এসএম জাকারিয়া বলেন, পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট ও বারের কোনো লাইসেন্স নেই। তারা বিনা লাইসেন্সে রেষ্টুরেন্টের নামে বারটি চালাচ্ছিল। বারে যারা মদ পান করতে এসেছিল, তাদের এ্যালকোহল পানের কোনো লাইসেন্স ছিল না। এই অভিযোগে আমরা ৩৫ জনকে আটক করি। পরে ভ্রাম্যমান আদালত তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করে। পুলিশের অভিযানের পর বারটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
পার্কভিউ রেস্টুরেন্ট এ্যান্ড বারের ম্যানেজার শতদল বড়ুয়া বিলু বলেন, আমাদের বারের লাইসেন্স রয়েছে। আমরা সরকারকে প্রতিবছর কর প্রদান করি। বারের কাউন্টারের দেয়ালে লাইসেন্সের কপি ঝুলানো রয়েছে। আমাদের ট্রেড লাইসেন্স ও রেস্টুরেন্ট লাইসেন্সও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) জাহাঙ্গীর বলেন, পুলিশ, ডিবি, র্যাব কিংবা ভিন্ন যেকোনো সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়া কোনো বৈধ কিংবা লাইসেন্সকৃত বারে এ ধরনের অভিযানে যেতে পারে না। এছাড়া এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টেও একটি রিট রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে পার্কভিউ রেস্টুরেন্ট ও বারে পুলিশের অভিযান নিয়ে যতদূর জেনেছি, তাতে পুলিশ এ অভিযানে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। তাদের অভিযানের পদ্ধতি সঠিক হয়নি। ডোপ টেস্ট ছাড়া তারা যেভাবে রেস্টুরেন্টে আগত অতিথিদের আটক করে পরদিন ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জেল-জরিমানা দিয়েছেন তা আইনসিদ্ধ নয়। এর বিরুদ্ধে আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এসআর