বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি বন্ধ রয়েছে। যেখানে একসময় নাটক, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল, সেই স্থানটি এখন উপজেলা অফিসের স্টোররুমে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব ভবন না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও, উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান পুরোনো হলরুমটি বরাদ্দ দিলেও তা বর্তমানে স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক অবহেলা, জবাবদিহিতার অভাব এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন আজ চরম সংকটে। দীর্ঘ এক যুগের স্থবিরতায় শেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন কার্যত ‘মৃত’। এখানে শতাধিক শিল্পী, সংগীতশিল্পী, নাট্যকর্মী ও আবৃত্তিকার থাকলেও তাদের চর্চার কোনো সুযোগ নেই।
লালন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র, ভবের হাটের সভাপতি মোজাফফর আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের শিশুরা পিছিয়ে গেছে। গত ১২ বছর এখানে সাংস্কৃতিক চর্চা নেই। একাডেমি শুধু নামেই আছে, বাস্তবে মৃত।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রার্থী থাকায় পরবর্তীতে আর কমিটি গঠন করা হয়নি। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান চলে যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে উপজেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি ঘোষণা দিলেও সেই কমিটির কোনো কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
নৃতাঞ্জলী আর্টস একাডেমির পরিচালক কে এম কামরুল হাসান পাশা জানান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি শুরুর পর দু-এক বছর কার্যক্রম চলমান ছিল, কিন্তু এরপর থেকে আজ পর্যন্ত এর কোনো কার্যক্রম নেই। পাশের ধুনট উপজেলায় কার্যক্রম থাকলেও আমাদের এখানে নেই। ফলে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে বাজেট এলেও সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ ব্যবহার হয় না। তৎকালীন ইউএনও আশিক খানের মাধ্যমে শেরপুর শিল্পকলা একাডেমির তথাকথিত “পকেট কমিটি”র সূচনা হয়। সেই থেকে আজও একাডেমির উন্নয়ন তহবিল সংস্কৃতি চর্চায় কাজে আসেনি। প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের বাদ দিয়ে উপজেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করার কারণে এই একাডেমির কোনো কার্যক্রম নেই বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, চারটি হারমোনিয়াম, তিন সেট ডুগি-তবলা, একটি কীবোর্ড, একটি গিটারসহ পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে। বিগত সময়ে কার্যক্রম চালু করা না গেলেও বর্তমানে নতুনভাবে শিল্পকলার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। শিল্পকলার বিষয়টি নিয়ে এখনো বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারিনি। তবে একতরফাভাবে কমিটি করার সুযোগ নেই। সকল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই শিল্পকলার কার্যক্রম চালু করা হবে।” তিনি আরও জানান, একাডেমিকে নতুনভাবে সাজিয়ে সামনে পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসএ/আরএন