রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কয়েকদিনব্যাপী উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ ঘোষণা দেয়।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন কোনো মরদেহ উদ্ধার না হওয়া এবং আর কোনো নিখোঁজের দাবি না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চ বিকেলে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
ওই দিন রাতেই ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন (২৬ মার্চ) সকালে আরও ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ জনে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করা হয়। তবে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল এখনও ঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। প্রয়োজনে তারা আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী বাসটি প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ যাত্রী নদীতে ডুবে যান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটি নদী থেকে তুলে আনে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিআরটিএ।
এসআই/আরএন