মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিখোঁজের দুই দিন পর নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
রোববার রাত ৮টার দিকে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাদেআলীসা গ্রামের কামারপাড়া এলাকার একটি পতিত জমিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত জুনায়েদ মিয়া (১৪) উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের আলীসারকুল গ্রামের প্রবাসী মো. রমিজ মিয়ার ছোট ছেলে। সে সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় জুনায়েদ বাড়ির পাশের রাস্তায় বসে মোবাইলে গেম খেলছিল। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর রোববার রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই জুবায়েদ মিয়া বলেন, 'রোববার বেলা ১২টার দিকে তার মোবাইলের ইমো অ্যাপে একটি অজ্ঞাত আইডি থেকে হুমকিমূলক বার্তা আসে। বার্তায় জুনায়েদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি মেসেজের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে থানায় জানান। তবে রাত ৮টার দিকে আরও একটি বার্তা আসে, যাতে প্রেরকরা পালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে কামারপাড়া এলাকায় ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া যায়।'
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নিহতের আত্মীয় রবিন আহমেদ বলেন, 'নিখোঁজের দিন থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে অপেক্ষা করতে বলে। পর দিন জিডি করার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং তেমন কোনো অনুসন্ধান চালায়নি। যোগাযোগ করলেও তারা সাড়া দেয়নি।'
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।'
তিনি বলেন, 'এসপি সাহেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।'
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
আরএ/এমএ