মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খানকে কর্মস্থলে যোগদানে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে নৈশপ্রহরী এমারত হোসেন তাকে বাঁধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খান এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা চালানোর কথা উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একদল ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করেন। এ ঘটনায় তিনি শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন ইউএনও ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।
এছাড়া, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বিদ্যালয়ের তৎকালীন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর খান প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করে ছুটিতে পাঠান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের মেডিক্যাল বোর্ড এবং সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রধান শিক্ষককে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করে। পাশাপাশি জেলা শিক্ষা অফিসারও তাকে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে মত দেন।
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, রমজানের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে আবারও তাকে বাঁধা দেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খান বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাকে সরাতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত বলেন, প্রধান শিক্ষক অসুস্থ থাকায় আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় আড়াল করতেই বর্তমান প্রধান শিক্ষককে সরানোর চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এইচআইএল/এসআর