জ্বালানী তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত একটি ট্যাংকলরীর চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল জরিমানা করার প্রতিবাদে ও জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮ টা থেকে পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে ট্যাংকলরী শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এ কর্মসূচির সাথে একাত্বতা ঘোষণা করছেন দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো (যমুনা অয়েল কোম্পানী) থেকে জ্বালানী তেল (ডিজেল, পেট্রোল) নিয়ে নীলফামারীর যাচ্ছিল। পথিমধ্যে নীলফামারী জেলা শহরের রেলগেট এলাকায় তেলবাহী লরীতে যান্ত্রিকত্রুটি (ডায়নামার সমস্যা) দেখা দেয়। গাড়ীর কেবিন খুলে চালক শ্রী কৃষ্ণ এবং তার সহকারি (হেলপার) রিফাত গাড়ী মেরামতের কাজ করছিলো।
এসময় নীলফামারী জেলার এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ ভূইয়া ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় তেল বাহি লরি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরী সার্চ করে লরির কেবিনে থাকা দুটি জারকিনে (ক্যান) মোট ১৩ লিটার (১০ লিটার পেট্রোল ও ৩ লিটার ডিজেল) জ্বালানী তেল পান।
পরে ট্যাংকলরীটি আটক করে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে নিয়ে যান। ওই ১৩ লিটার তেল অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণ এবং চালক সহকারি রিফাতকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও তিনজনকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও একমাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।
শ্রমিকদের মুক্তি ও নিলফামারী জেলার এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ ভূইয়া বদলীর দাবিতে রোববার সকাল থেকে ট্যাংকলরী শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি শুরু করে এবং পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
দুপুরে পার্বতীপুর বাস টার্মিনাল গোল চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শ্রমিকরা। সমাবেশ বক্তব্য রাখেন- রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান (আতু), সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান (আতু) বলেন, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূইয়াকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রংপুর বিভাগের বাহিরে বদলী করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দিয়ে সারাদেশে জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এএএম/এসআর