লালমনিরহাটে কোনো প্রকার আইনি নোটিশ বা পুলিশি উপস্থিতি ছাড়াই এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৃত গঙ্গামোহন সরকারের পুত্র গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার মালিকানাধীন জমিতে আকস্মিক ভাবে প্রবেশ করেন। সে সময় তার সাথে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন এবং স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকুর উদ্দীনসহ প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল উপস্থিত ছিল।
ভুক্তভোগী তার অভিযোগে বলেন, কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সেখানে 'মব' সৃষ্টি করে বসতবাড়ির সাইনবোর্ড ও স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। ভুক্তভোগী ও তার সন্তানদের জোরপূর্বক জমি থেকে বের করে দিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেটের প্রায় ১০ হাজার ইট, ১০০ বস্তা সিমেন্ট এবং প্রায় ২ লক্ষ টাকার রড লুটপাট করা হয়।
গোবিন্দ চন্দ্র সরকারের দাবি, এই জমি কোনো সরকারি খাস বা কলোনির জায়গা নয়। ১৯৪৩ সালে তার বাবা প্রায় ১৭.৫ একর জমি ক্রয় করেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশ পরবর্তীতে সরকার অধিগ্রহণ করে। অবশিষ্ট ২ একর ১৭ শতাংশ জমি ১৯৬২ সালে তার বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এই জমির একটি অংশ ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মন্দিরে দান করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট জমিতে তিনি বৈধ ভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ করছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্লুত কণ্ঠে গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, 'আমি একজন আইন মান্যকারী নাগরিক। আমার যদি কোনো ত্রুটি থাকতো, তবে আমাকে কাগজপত্র দেখানোর সুযোগ দেওয়া কিংবা আইনি নোটিশ দেওয়া যেত। কিন্তু ইউএনও মহোদয় পুলিশ ছাড়াই স্থানীয় একদল ব্যক্তিকে নিয়ে যেভাবে হামলা ও মারধর চালিয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বেআইনি।
তিনি বলেন, 'তাকে টেনে-হিঁচড়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়েছে।'
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। একইসঙ্গে দখলকৃত সম্পত্তি দ্রুত ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৯৪০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত জমির সকল বৈধ দলিল ও কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার ইউএনও মনোনীতা দাস বলেন, 'জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।'
এর বেশি মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
এমএস/এমএ