ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের লাল শাহা মামুদের পুত্র শেখ সাদির সেচের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পাঁচ একর আবাদী জমির ফসল উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক পরিবারটি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হালুয়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল করিম আবাদী জমির ফসল উৎপাদন করার জন্য শেখ সাদিরকে তিন বছরের জন্য অগভীর নলকুপ সেচ লাইসেন্স প্রদান করে ছাড়পত্র দেন (যাহার নং ২০৭)। পরবর্তীত্বে গত ২০২৩ সনের ১০ জানুয়ারি হালুয়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা হাসান নবায়ন করে পুনরায় ছাড়পত্র দেন। লাইসেন্সের মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই হালুয়াঘাট পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ বিনানোটিশে সেচের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষক শেখ সাদির।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক শেখ সাদির বলেন, আমার বৈধ সেচ লাইসেন্স থাকার পরও বিদ্যুতের লোকজন তার বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। তার নামে কোন বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নেই। তথাপি তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাতে তার পাঁচ একর আবাদী জমির ফসল উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পথে বসতে হবে। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে ফসল উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালমান ওমর রুবেল ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চান।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অত্র এলাকার প্রথম সেচ লাইসেন্স ছিল শেখ সাদির তারপরও বিদ্যুতের লোকজন তার বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করার জন্য প্রশাসনের নিকট আহবান জানান।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে হালুয়াঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মোঃ মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, সেচ লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি তিনি অবগত নন। ঈদের পর ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে অফিসে যোগাযোগ করতে আহবান জানান।
এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাত এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে কিন্তু বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা নয়। ভুক্তভোগী কৃষককে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার কথা বলেন।
জেডসিজি/ এসআর