রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরীঘাটে বাস দুর্ঘটনায় মোছাম্মত নাসিমা বেগম (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নে। বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন স্বজনরা।
জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলায় ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নে মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩০)। স্বামী হারা নাছিমা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাকরির উদ্দেশ্যে সাভারে ভাগনীর আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। এক মাসের চেষ্টার পরও চাকরির ব্যবস্থা না হওয়ায় ঈদ করতে ভাগনীর শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুরে যান তারা।
ঈদ শেষে ঘটনার দিন (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টায় বাসযোগে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ফেরীঘাট দিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা করেন নাছিমা খাতুন, ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাগনী আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ। দুর্ঘটনার সময় প্রত্যেকে বাসে ছিলেন। বাস ডুবে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ভেসে উঠে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচেন শুধুমাত্র আব্দুল আজিজ।
এর প্রায় ৬ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে অপর তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকল কার্যক্রম শেষ করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তার আত্মীয়রা। পথিমধ্যে রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া পার হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে (চলন্ত গাড়ির চাকা ব্লাষ্ট হয়ে যায়) লাশবাহী গাড়িটি।
নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, 'রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। ধ্বসে পড়া বহুতল ভবনের নিচ থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার হয়েছিলো তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য ঢাকা যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আমাদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে।'
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. ওয়াদুদ বলেন, 'খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পরিদর্শন করেছি। সেই সাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।'
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে যান পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি।
এএম/এমএ