কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব অষ্টমী স্নানে লাখো পূণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। ভগবানের কৃপা ও পাপ মুক্তির আশায় শিশু ও বৃদ্ধরাও বাদ যাননি স্নানোৎসব করতে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অষ্টমী স্নানোৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ উপজেলা শাখা ও পৌর শাখা।
অষ্টমী স্নান পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম মবিন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক প্রদীপ কুমার সরকার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমল চন্দ্র দেব জগাই ,সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার সরকার, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুবল চন্দ্র বনিক (তাপস), উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক উজ্জ্বল কুমার সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস দেবনাথ প্রমুখ।
অষ্টমী স্নান উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিনের উদ্যাগে পূণ্যার্থীদের মাঝে খাবার পানি, ফল ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়।
অষ্টমী স্নান উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীর, ঐতিহ্যবাহী কুলেশ্বরী বাড়ী ও মাঠ এবং রামপুর বাজারে বসে অষ্টমীর মেলা। মেলায় দোকানিরা নানা খেলনা, মিষ্টি জাতীয় খাবার ও বাহারি গ্রামীণ পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। অষ্টমীর স্নানোৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র উপজেলার সর্বত্রই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
কিশোরগঞ্জ সদর থেকে অষ্টমী স্নানে আসা শ্রীপা সরকার বলেন, 'প্রতি বছরই এখানে স্নান করতে আসি। এবারও একটি সুন্দর আয়োজন হয়েছে। এখানে অনেক মানুষ স্নান করতে আসেন।'
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, 'ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গীতা পাঠ, মাল্যজপ, ধ্যান, প্রসাদ বিতরণ, হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে পূণ্যার্থীরা স্নানোৎসব সম্পন্ন করেন। জেলার ১৩টি উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ থেকেও পূণ্যার্থীরা অংশ নেন উৎসবে।'
ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, 'সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে অষ্টমী স্নান উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বেশী পূণ্যার্থী এসেছে।'
এসএ/এমএ