সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো বাইকচালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
এ উপজেলায় ফিলিং স্টেশন না থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জ্বালানি তেলের ডিলাররা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় তেল ডিপো থেকে কোম্পানিগুলো কম সরবরাহ করায় তারা বিপাকে পড়েছেন। ফলে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। কেউ কেউ সামান্য তেল পেলেও অনেকের ভাগ্যে জোটেনি, আবার অনেককে খালি হাতেও ফিরতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দোকানদাররা বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রোল ১৭৫ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপায়ান্তর না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনে চলাচল করছেন। এতে একদিকে যেমন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, অন্যদিকে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
ফুলবাড়ী উপজেলায় পেট্রোল পাম্প না থাকায় পদ্মা ওয়েল (পিএলসি) কোম্পানি তিনজন প্যাক পয়েন্ট ডিলার নিয়োগ দিলেও, তাদের মধ্যে শুধুমাত্র মেসার্স হক ট্রেডার্স গত মঙ্গলবার রাতে ২ হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছে। তবে এই সরবরাহ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
বুধবার সকাল থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কেউ কেউ পেট্রোল পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও অকটেন ও ডিজেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সকাল ৯টা থেকে ফুলবাড়ীস্থ পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিলার মেসার্স হক ট্রেডার্স একদিনের জন্য পাওয়া ২ হাজার লিটার পেট্রোল প্রতি লিটার ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছে। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অনেকেই দুই লিটার করে পেট্রোল সংগ্রহ করছেন। এতে বাইকচালকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
মেসার্স হক ট্রেডার্সের মালিক এমদাদুল হক সরকার জানান, প্রতিদিন তার প্যাক পয়েন্ট ডিলার হিসেবে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল, ১ হাজার লিটার অকটেন এবং ৯ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে মাত্র ২ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়নি।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে তিনি ক্রেতাদের রোষানলে পড়ছেন।
তেল নিতে আসা এরশাদুল হক বলেন, এখানে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। দ্রুত সমাধান না হলে এর বিরূপ প্রভাব জাতীয় পর্যায়েও পড়তে পারে।
স্কুল শিক্ষক জায়দুল হক বলেন, আমাদের পে-স্কেলের হাজার হাজার কোটি টাকা জ্বালানি ও কৃষিতে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির এই সংকট উদ্বেগজনক। এর পরিণতি কী হবে, তা আমরা জানি না।
মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে আসা শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ও রণজিৎ চন্দ্র রায় জানান, প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, সকাল থেকে আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে যানবাহনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এসি/আরএন