২৫ মার্চের ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসীম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে।
‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসীম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। এতে শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ-লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়।”
তিনি আরও বলেন, “ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনের কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও তৎকালীন ইপিআর-এর অসংখ্য সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক এবং অগণিত নিরপরাধ মানুষ গণহত্যার নির্মম শিকার হন। আজকের এই দিনে আমি সকল শহীদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি এবং তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা এবং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাঁথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত।”
তিনি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর বহুকাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা—যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার থাকবে না। ধর্ম, বর্ণ, দল ও মত নির্বিশেষে শহীদদের এই চেতনা ও প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সমবেতভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।”
তিনি ২৫ মার্চসহ দেশমাতৃকার সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
আরএন