প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীর বলেছেন, 'দেশের উন্নয়নকে সমতাভিত্তিক করতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।'
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার খা-পাড়া এলাকার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, 'অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের শিল্পায়ন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত ১৭ বছরে উন্নয়নের কথা বলা হলেও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তার প্রমাণ- বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতিটি পরিবারেই যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব দেখা যাচ্ছে, অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।'
তিনি বলেন, 'কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূর করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জনগণ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেগুলো বাস্তবায়িত হবে।'
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৪ অগাস্ট পঞ্চগড়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা)-এর চুক্তি স্বাক্ষর হয়। শুরুতে ৬০২ দশমিক ৪২ একর জমির ওপর প্রকল্পটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা কমিয়ে ২৫০ দশমিক ৮৫ একরে নির্ধারণ করা হয়।
এর মধ্যে ২৪০ একরে অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ১০ দশমিক ৮৫ একরে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮৫ দশমিক ৮৬ একর জমি বেজার অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে চুক্তির প্রায় ৬ বছর পার হলেও প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন এলাকাটি পরিদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের উদ্যোগে প্রকল্পটি পুনরায় সক্রিয় করার জন্য উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা উপদেষ্টার এ পরিদর্শন।
এইচসি/এমএ